
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জ্বালানি অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার একগুচ্ছ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে জ্বালানি সাশ্রয় ও দেশের অর্থনৈতিক চাপ কমানো যায়।
সরকারি সূত্র বলছে, এই প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি, যাতে মোট কর্মদিবসের ওপর চাপ কমে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের জন্য আবার ঘরে বসে কাজের সুযোগ চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা করোনা মহামারির সময় কার্যকর হয়েছিল, এবং এখন তা পুনরায় চালুর প্রস্তাব এসেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে শিক্ষা কার্যক্রম থেমে না গিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়েও সহায়তা পাওয়া যায়। সরকার সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছে, এবং তা আগামী মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
এছাড়াও অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন, দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা এবং প্রতিটি অফিসে নজরদারি দল গঠন করা—এসব উদ্যোগও গ্রহণের পরিকল্পনার অংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি চাপ সামাল দিতে সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি; সরকার মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবে কোন কোন পদক্ষেপ কার্যকর হবে এবং কখন থেকে তা শুরু হবে।