
দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় রান পঞ্চাশ পেরোতেই সেই প্রতিরোধে ছেদ পড়ে। নাথান লায়নের বলে লং অফে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।
লায়নের বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে টাইমিং করতে পারেননি শান্ত। সহজ ক্যাচটি লুফে নেন মিচেল স্টার্ক। ৪৬ বলে ৩১ রান করে বিদায় নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার আউটে ৫১ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
২৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৫৯ রান। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দিয়েছেন লিটন দাস। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৪৬ রানের লিড টপকাতে এখনো বাংলাদেশের প্রয়োজন ৮৭ রান।
প্রথম সেশন শেষ হওয়ার ঠিক আগে শান্তকে ঘিরে রিভিউ নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। নাথান লায়নের বল শান্তর ব্যাটের পাশ দিয়ে গিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে জমা পড়লে কট বিহাইন্ডের আবেদন করেন স্বাগতিকরা।
আম্পায়ার নটআউটের সিদ্ধান্ত দিলে অ্যালেক্স ক্যারির পরামর্শে রিভিউ নেয় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু রিপ্লেতে স্পষ্ট হয়, বল ব্যাটে স্পর্শ করেনি। ফলে প্রথম রিভিউটি হারায় স্বাগতিক দল।
এরপর লাঞ্চ বিরতিতে যায় দুই দল। প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৩৯ রান। শান্ত ২৩ এবং মুশফিক ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪ বলে ৯ রান করে আউট হন তানজিদ হাসান তামিম। প্যাট কামিন্সের শর্ট বল হুক করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
তানজিদের বিদায়ের পর অবশ্য আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন শান্ত। স্টার্কের করা ওভারেই টানা দুটি চার মেরে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
এর আগে দিনের শুরুতে আগের দিনের দুই উইকেটের সঙ্গে আরও ৪৫ রান যোগ করে ২১০ রানে থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। এতে প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
ক্যামেরন গ্রিনকে ৬৭ রানে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ উইকেটটি তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। নাথান লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন।
৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনো বাঁহাতি পেসারের অন্যতম সেরা বোলিং ফিগার গড়েছেন শরিফুল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টের এক ইনিংসে প্রথমবার ৭ উইকেট নেওয়ার নজিরও স্থাপন করেছেন তিনি।
এর আগে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এক ইনিংসে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি ছিল শাহাদাত হোসেনের। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ১৮ বছর পর সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন শরিফুল।
দেশের বাইরের টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারও এখন শরিফুলের দখলে। এর আগে দুই মাস আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম।