
বিশ্বকাপের আর মাত্র ৬৬ দিন বাকি, ঠিক এমন সময় আবারও হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের খবর সামনে এসেছে নেইমারের। তবু হাল ছাড়ছেন না ব্রাজিলের এই তারকা; বরং তাঁকে পূর্ণ ফিট করে বিশ্বকাপ দলে ফেরাতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তাঁর ক্লাব সান্তোস।
আসন্ন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেতে হলে শতভাগ ফিট থাকা জরুরি, এমন শর্ত আগেই বেঁধে দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই লক্ষ্যেই নেইমারকে দ্রুত মাঠে ফেরাতে মেডিক্যাল টিম, ফিটনেস কোচ এবং কোচিং স্টাফ একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনা স্পষ্ট, জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগে যত বেশি সম্ভব ম্যাচে তাঁকে খেলানো।
আগামী ১৮ মে ব্রাজিল দল ঘোষণা করা হবে, আর ২৫ মে শুরু হবে প্রস্তুতি ক্যাম্প। এই সময়ের মধ্যে সান্তোসের সামনে আছে ১৪টি ম্যাচ। ক্লাবের লক্ষ্য, অন্তত ১৩টিতে নেইমারকে মাঠে নামানো। তবে শুরুতেই ঝুঁকি নিতে চাইছে না তারা; কোপা সুদামেরিকানার প্রথম ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হচ্ছে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য।
এই চাপ সামলাতে নেইমার নিজের ফিটনেস নিয়েও বাড়তি কঠোর হয়েছেন। দিনে দুই বেলা অনুশীলন করছেন, শরীরকে ম্যাচের ধকল সহ্য করার মতো করে গড়ে তুলছেন। পাশাপাশি তাঁর পুনর্বাসনে ব্যবহার করা হয়েছে ‘প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা’ বা পিআরপি থেরাপি, যেখানে নিজের রক্ত থেকেই টিস্যু পুনর্গঠন ত্বরান্বিত করা হয়।
সান্তোস কোচ কুকা জানান, আন্তর্জাতিক বিরতির সময়ই নেইমারের হাঁটুতে সর্বশেষ অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন তিনি। এর আগে মৌসুম শেষে একবার অস্ত্রোপচার করালেও, পুনরায় একই জায়গায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় নতুন করে এই চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার শেষবার ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তুলেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে গুরুতর চোট পাওয়ার আগে। এরপর চোট আর ফিটনেস জটিলতায় জাতীয় দল তো দূরের কথা, ক্লাব ফুটবলেই নিয়মিত হতে পারেননি।
তবে এবার লক্ষ্য একটাই, বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ‘মিনি প্রি সিজন’ ধরনের বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন নেইমার। তাঁর অনুশীলনে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে গতি, শক্তি ও স্ট্যামিনা বাড়ানোর ওপর।
তবু শঙ্কা কাটছে না পুরোপুরি। টানা ম্যাচ খেলার চাপ, কৃত্রিম ঘাসের মাঠে খেলার ঝুঁকি এবং পুরোনো চোট, সব মিলিয়ে পথটা সহজ নয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এই দৌড়ে নেইমারকে এগিয়ে নিতে সান্তোসের পরিকল্পনা এখন একপ্রকার যুদ্ধের মতোই, যেখানে প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি অনুশীলন যেন বিশ্বকাপের টিকিট জয়ের লড়াই।