
মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অভিযানের খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটির ইপোহ এলাকায় একটি দরজা তৈরির কারখানার কাছে অবৈধ অভিবাসীদের আটকের জন্য অভিযান চালানো হলে অনেকে দৌড়ে পালানোর ও লুকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশিকে ধরা পড়া এড়াতে উঁচু করে রাখা কাঠের তক্তার মাঝখানে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ শিল্পবর্জ্যের পাত্র ও আলমারির ভেতর লুকানোর চেষ্টা করেন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীর ও চেহারা ময়লা হয়ে যায়।
অনেক শ্রমিক কারখানার সীমানাপ্রাচীর টপকে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে প্রাচীরগুলো বেশ উঁচু হওয়ায় এবং ওপরের অংশে কাঁটাতার থাকায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
অভিবাসন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় চেমোরের বারচাম ও কানথান এলাকায় অভিযান শুরু হয়। কাঠের কারখানা, গ্লাভস তৈরির কারখানা এবং ফুড কোর্টগুলোকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়।
অভিযানে মোট ৩০৫ জন শ্রমিককে পরিদর্শন করা হয়। তাদের মধ্যে ১৭৫ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই বাংলাদেশের নাগরিক। এ ছাড়া মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকও রয়েছেন।
জাকারিয়া শাবান বলেন, ‘তাদের বেশিরভাগই নথিপত্রহীন থাকা, বৈধ অনুমতিপত্র না থাকা এবং চাকরিতে নিযুক্ত থাকার মতো প্রাথমিক অপরাধ করেছে। এমনও অনেকে ছিল যাদের কাছে এমন অনুমতিপত্র ছিল যা তারা যে কোম্পানিতে কাজ করছিল তার জন্য ছিল না। বেশ কয়েকটি ঘটনায় জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ পাস ব্যবহার করা হয়েছিল।’