
২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার দাবি, অতীতের সরকারগুলো যেখানে ভোট চুরি করত, সেখানে বিএনপি ফলাফল চুরি করেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির পদযাত্রা ও পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ২০১৪ সালে বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালে ‘মিডনাইট নির্বাচন’ এবং ২০২৪ সালে ‘ডামি নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনেও অনিয়ম হয়েছে, তবে এবার ভোটের পরিবর্তে ফলাফলই পরিবর্তন করা হয়েছে। তার ভাষায়, অতীতে সরকারগুলো ভোট চুরি করলেও বিএনপি সরকার ফলাফল চুরি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, তাদের কাছে দেশের চেয়ে দলীয় স্বার্থই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এনসিপির এই নেতা বলেন, দলটি কোনো ক্যান্টনমেন্ট বা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর তৈরি রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তার ভাষ্য, এনসিপির একমাত্র শক্তি ও মালিকানা দেশের জনগণ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ব্যাংক খাত, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিএনপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ১২টি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি তার দাবি, আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও এখন থেকেই ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
পথসভায় দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনও বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ একজনকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, এখন সবার আগে বিএনপি।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ পথসভার সভাপতিত্ব করেন জেলা আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মাহমুদা মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার, যুগ্ম সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানসহ স্থানীয় নেতারা।