
একটি সালিশ বৈঠকে বিএনপির এক কর্মীর সঙ্গে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তপ্ত আচরণ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে “চিড়িয়াখানায় রাখা উচিত” বলে মন্তব্য করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান এমপি হানজালা।
রোববার (২১ জুন) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁনের মন্তব্যের জবাব দেন তিনি। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে হানজালা লেখেন, “রাশেদ খাঁন আমাকে চিড়িয়াখানায় দেখতে নিতে চায়। আমি তো যাবই, তবে থাকবো বাঘের সাথে বাঘ অন্তত নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত না!”
একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “আর রাশেদ খাঁনকে রেখে আসবো ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এক গরুর (মহিষ) পাশে। দেখি দুজন মিলে কতক্ষণ গল্প করতে পারে! চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে শুধু একটা অনুরোধ গরুটা যেন পরে নাম পরিবর্তনের আবেদন না করে।”
এর আগে শনিবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় এক মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সালিশ বৈঠকে এমপি হানজালা উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলছেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “কথা বললেন কেন? আপনারা এখানে কাউন্টার দিলেন কেন?” পরে টেবিলে আঘাত করে তিনি বলেন, “ওই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলবো। চুপ করেন। আমি আসছি বিচার করার জন্য। কাউন্টার দিলে আমি দিবো।”
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। তিনি এমপি হানজালার আচরণের সমালোচনা করে লেখেন, ‘এমপি হানজালারে চিড়িয়াখানায় রাখা হোক, যাতে চিড়িয়াখানার কাউন্টার থেকে সবাই এই অদ্ভুত প্রাণীটাকে টিকিট কেটে দেখতে পারে! আজকে একজন বিএনপি নেতার সাথে তার যে আচরণ দেখলাম, সত্যিই লজ্জা লাগছে, এসব ম্যানারলেস লোকজন কীভাবে এমপি হলো?’
রাশেদ খাঁনের ওই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে এমপি হানজালার পাল্টা মন্তব্যে বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পায়।