
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সাফল্য অর্জন করেছে বিএনপি ও তাদের জোট। ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করেছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশ আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।
২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৬০টির বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা জয় পেয়েছেন ১৯৭টি আসনে। ফলে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা এসব ফল প্রকাশ করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৫৮টি আসন। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলিয়ে জয় পেয়েছেন ৪টি আসনে।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের পর থেকে টানা নারী নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হয়েছে। এ সময় দীর্ঘদিন সরকারপ্রধান ছিলেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
নির্বাচনে বড় জয় এলেও উচ্ছ্বাস প্রকাশে সংযম দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রেস উইং জানিয়েছে, নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য বাদজুমা সারা দেশে শুকরিয়া আদায় ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে, যা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট নেওয়া হয়। ভোট শেষে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু হয়।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় এবার ২৯৯টি আসনে মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে দলীয় মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র ২৭৪ জন এবং নারী প্রার্থী ৮৩ জন। নারী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় ছিলেন ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন।
এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। বিশ্বের ১২৪টি দেশে পাঠানো হয়েছিল পোস্টাল ব্যালট।