
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পরও তাসনিম জারা আপিলে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার শক্ত আইনি যুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, দল থেকে পদত্যাগের কারণে নির্বাচনী তহবিলে দান করা ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর টাকা যারা চাইবেন, তাদের সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ১১টা ২২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা এসব কথা জানিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা গতকাল দুপুরে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল শুরু করেছেন। তাসনিম জারা বলেন, ‘মনোনয়নপত্র বাতিলের খবর শুনে অনেকেই চিন্তা করছেন যে নির্বাচন করতে পারব কি না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা আপিলে জিতে আসব এবং আপনাদের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনে লড়ব।’
নিজের আইনজীবীর কথা উদ্ধৃত করে তিনি জানিয়েছেন, আপিলে বলার মতো শক্ত যুক্তি এবং পূর্বের উদাহরণ রয়েছে। বাংলাদেশের পরিবর্তন নিয়ে আশাবাদী তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদেরকেও নিরাশ না হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’
ভিডিও বার্তায় ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর প্রসঙ্গেও তাসনিম জারা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময়ই তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় কেউ যদি অনুদান ফেরত চাই, তা ফেরত দেওয়া হবে।’ এখন পর্যন্ত ২০৫ জন বিকাশে পাঠানো অনুদান ফেরত চেয়েছেন এবং তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, যারা এখনও টাকা ফেরত চাইবেন, তাদের জন্য ফর্মের লিঙ্ক ভিডিওর ক্যাপশন এবং কমেন্টে দেওয়া হয়েছে। ‘যারা যারা টাকা ফেরত চাইবেন, সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে। প্রত্যেকের টাকা ফেরত যাবে। এটা নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই,’ বলেন তাসনিম জারা।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে মোট ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছেন।
তাসনিম জারা এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তের কারণে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।