
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ফরিদপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সৈয়দা নীলিমা দোলা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ২টা ৫৩ মিনিটে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং সঙ্গে পদত্যাগপত্রও সংযুক্ত করেন।
নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছি। আমার পদত্যাগপত্রটি আমার বন্ধু, কমরেড ও সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত করছি। আমি সৈয়দা নীলিমা দোলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল দায়িত্ব ও পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আমি মনে করি, এনসিপির পক্ষে এখন আর মধ্যপন্থী রাজনীতির নতুন পথ সৃষ্টি সম্ভব নয়। এতদিন আমি এনসিপির সঙ্গে ছিলাম কারণ মনে করেছিলাম, দলটি জুলাই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। তবে সম্প্রতি দলটির নানা সিদ্ধান্তের পর আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে, এই দলটি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী ঘরানায় ঢুকে পড়ছে এবং সেই ধারার রাজনীতিকেই তারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।”
তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে গঠিত কেন্দ্রিক জোটকে, যা তার মতে কোনো কৌশলগত জোট নয়। নীলিমা দোলা বলেন, “দলের নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে এই জোট করা হয়েছে এবং মনোনয়ন দেবার নাম করে তীব্র প্রতারণা করা হয়েছে।”
এছাড়া তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত প্রগতিশীল মানসিকতা ও কাজের মাধ্যমে এনসিপিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। “যারা পদত্যাগ করছেন তাদের বামপন্থী বলে ফ্রেমিং করাটাও একটি গেম প্ল্যানের অংশ, যাতে জামায়াতের কাছে দল বিক্রি করা সহজ হয়। কিন্তু বাকি যারা রয়ে গেছে তারা কি সবাই ডানপন্থী? এনসিপি কি আর সেন্ট্রিস্ট দল নয়?” – প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এনসিপির ভেতরে নারী, শিশু, শ্রমিক, আদিবাসী, হিজড়া, হিন্দু, মাজারকেন্দ্রিক জনগণকে এক করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, কিন্তু গত দেড় বছরে দলের মনমরা ও দায়সারা আচরণ তার রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, “আমার বা আমার মতো মানুষদের এনসিপি থেকে বিদায় প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে এনসিপি ছাড়াও জুলাইয়ের আরও একটি পক্ষশক্তি আছে।”
নীলিমা দোলা শেষাংশে বর্তমান এনসিপি নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক প্রয়োজনে নেগোসিয়েশন বা দফারফা করা সকল বা বেশিভাগ দল করলে করুক, কিন্তু এনসিপির জন্য তা নিতান্ত বেমানান। কারণ, এনসিপি হাজারো জুলাই শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে এসেছিল। ধর্মীয় রাজনীতিকে ফ্রন্টে এনে পলিটিক্স খেলার জন্য শহীদেরা জান দেননি।”
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দলটির জোট গঠনের পর একাধিক নেত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।