গণতন্ত্র শুধু সরকার গঠনের সাময়িক কোনো প্রক্রিয়া নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র একটি সমাজকে স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত রেখে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত থাকলে মানুষের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথও সুগম হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশে গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করেছে। এর ফলে জনগণ ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে।
জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে এসেছে। দেশের মানুষ বিভিন্ন সময়ে রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্বৈরাচারী মনোভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিভিন্ন সময়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতেই দেশের ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত করেছে। এই বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধনির্ভর বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাচ্ছে। দেশকে আর কোনোভাবেই গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনার দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনকে সংকীর্ণ দলীয় প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। শাসনব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রকৃত অর্থে গণমুখী করার অঙ্গীকারও করতে হবে।
বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, ন্যায্য নাগরিক সুবিধা আদায় এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালনের জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।