
ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে দুই ঘণ্টা আটকে রাখা এবং কূটনৈতিক চিঠি থাকার পরও তাকে অপমানজনকভাবে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য করার ঘটনায় জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের কূটনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আজ এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাইফুল আলম খান মিলন।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই সংসদ সদস্য বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) দিল্লির বিমানবন্দরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর হিসেবে অভিহিত করে ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন মহান সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ও যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি থাকার পরেও কেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে ভারতের বিমানবন্দরে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলো, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এই চরম অপমানের প্রতিবাদে তিনি সেখান থেকেই বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক ব্যর্থতা রয়েছে কি না, এবং সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় মর্যাদা ও অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ইস্যুটির প্রকৃত সত্য দেশবাসীকে জানাতে সংসদে ৩০০ বিধিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
অবশ্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁর এই বক্তব্যকে প্রথাগত পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি আসন থেকে বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার না হলেও মাননীয় সংসদ সদস্য চাইলে এই বিষয়ে পরবর্তীতে একটি নোটিশ জমা দিতে পারেন এবং তখন বিষয়টি বিধি মোতাবেক বিবেচনা করা হবে।