
দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয়, আনন্দময় ও উৎসবমুখর করে তুলতে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দূরীকরণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই সাড়ে ৪ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস তুলে দেওয়ার পাশাপাশি খুব দ্রুতই সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের পুষ্টিকর খাবার বা ‘মিড-ডে মিল’ প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ (UNICEF) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ (ইএসএ) ২০২৬’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ যাচাইকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান।
নতুন শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে গড়ে উঠুক। এই লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও বৈশ্বিক সম্পদে রূপান্তরের ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের যে সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে, সেটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আগামীর বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মহাপরিকল্পনায় শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
উক্ত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যামপে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। এ ছাড়া বৈশ্বিক উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন এবং বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশনের মিনিস্টার কাউন্সিলর মাইকেল ক্রেজা।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই কর্মশালায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।