
বইপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার দ্বার উন্মুক্ত করবেন তিনি। মাসব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে ৫৪৯টি প্রকাশনা সংস্থা। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮টিতে। তুলনায় গত বছর ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে জায়গা পেয়েছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট সংখ্যা ১০৭।
মেলার নকশা আগের বছরের আদলেই রাখা হয়েছে। তবে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহিরপথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন এলাকায় চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ রাখা হয়েছে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে।
খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। নামাজের স্থান ও ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সব সেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মেলায় বাংলা একাডেমি এবং অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশন অনুযায়ী বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার উভয় অংশেই পৃথক স্টল থাকবে।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে আয়োজিত হবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার। এর পর বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ পালন করা হবে। শিশু ও কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
আজ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত, ছুটির দিন ব্যতীত, প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।