
দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ নিতে যাচ্ছেন মঙ্গলবার, অথচ এখনো নির্ধারিত হয়নি তাঁর সরকারি বাসভবন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে কে থাকবেন, তা স্পষ্ট হলেও কোথায় থাকবেন সেই প্রশ্নে চলছে আলোচনা।
‘গণভবন’কে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের পর প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনো স্থায়ী সরকারি বাসভবন নেই। ফলে শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান কোথায় বসবাস করবেন, তা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর ‘যমুনা’ই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ঠিকানা হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে। তবে তা বাস্তবায়নে অন্তত দুই মাস সময় প্রয়োজন। কারণ দায়িত্ব ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যমুনা খালি হবে না এবং ড. ইউনূস কবে সেখানে থেকে সরে যাবেন, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। তাঁর প্রস্থানের পর পুরো ভবন সংস্কার এবং নতুন আসবাবপত্র সংযোজনের কাজ শেষ করতেই প্রায় দুই মাস লাগতে পারে।
অন্যদিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ২৯ নম্বর বাড়ি নির্ধারিত রয়েছে। পাশাপাশি হেয়ার রোড ও বেইলি রোডে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ১৫টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ আছে। বেইলি রোডে তিনটি মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় ৩০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর থাকার মতো বড় আকারের ফ্ল্যাটের ব্যবস্থাও রয়েছে।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পারিবারিক স্মৃতির টানে তারেক রহমান ‘ফিরোজা’য় থাকতে পারেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেও থাকতে পারেন। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর পরিবারসহ বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে সেখান থেকে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। ইতিমধ্যে ওই বাড়ি এবং আশপাশের এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন শুধু ব্যক্তিগত আবাসন নয়; সেখানে দপ্তর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের থাকার ব্যবস্থাও থাকতে হয়। গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে সেই পরিকাঠামো নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কিছু মহলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য সম্পূর্ণ নতুন বাসভবন নির্মাণের প্রস্তাবও উঠেছে। তবে এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। এ ছাড়া তারেক রহমানের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ফোর্স, বিশেষ করে এসএসএফের পরামর্শও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা গেছে, গত বছরের ৭ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
কমিটি কয়েক দফা বৈঠকে সম্ভাব্য স্থান নিয়ে আলোচনা করেছে। প্রথমে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একত্র করে প্রধানমন্ত্রীর আবাসন গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবিক জটিলতায় সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসা হয়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য বিকল্প আবাসনের প্রশ্ন এবং স্থপতি লুই আই কানের নকশা সংরক্ষণ না করার অভিযোগ সামনে আসে।
পরবর্তীতে শেরেবাংলা নগরের পরিত্যক্ত বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন বাসভবন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় নেয় ইউনূস সরকার। জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াতের সুবিধা এবং নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় রাখার দিকটি ইতিবাচক হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কায় প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়।
এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা যেখানে (যমুনা) আছেন সেটিই আপাতত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হতে পারে, তবে আমি নিশ্চিত নই। হয়তো নতুন প্রধানমন্ত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন ওনার জন্য কোনটি যথাযথ হবে।’