
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা মফস্বল এলাকার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনেক বেশি জটিল—এ মন্তব্য করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, ঢাকার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হতে হলে বিশেষ ধরনের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বা কন্ট্রোল ক্যাপাসিটি প্রয়োজন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড–২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ঢাকা মহানগর পুলিশ একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও জটিল সংগঠন। এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি মফস্বল এলাকার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঢাকার থানার ওসি হতে হলে আলাদা ধরনের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বা কন্ট্রোল ক্যাপাসিটি লাগে।”
মফস্বল এলাকা থেকে সরাসরি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব দিলে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়—এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভোলার তমিজউদ্দিন থানার ওসিকে এনে যদি গুলশানের ওসি বানানো হয়, তাহলে তার পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
ওসি বদলি ও নিয়োগ প্রসঙ্গে শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে রদবদল হলেও ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মফস্বল থেকে ওসি এনে ঢাকায় দায়িত্ব দিলে সবার জন্যই ভোগান্তি বাড়বে। সে কারণেই ঢাকার ভেতর থেকেই লটারির মাধ্যমে ওসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তবে এই পদ্ধতিতেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে স্বীকার করেন ডিএমপি কমিশনার। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ধরুন সবুজবাগ থানার ওসি যদি লটারিতে মোহাম্মদপুর পেয়ে যায়, তাহলে সমস্যা হয়। সবুজবাগে যে ধরনের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা দরকার, সেটি দিয়ে মোহাম্মদপুরের মতো এলাকায় কাজ করা কঠিন হয়।”
এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ৪০ দিন যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তাহলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, “জাতীয় নির্বাচন এখন আমাদের টপ প্রায়োরিটি। জানুয়ারি মাসের ২১ বা ২২ তারিখ থেকে প্রচারণা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। সে সময় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও মাস্তানি দমনে পুলিশকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের বিষয়ে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে সাংবাদিকদের একটি কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে তিনি আগ্রহী। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে যেন পুলিশ সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।