
জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের একটি গির্জায় প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার পর সিরিয়ার ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী। এতে তিন শিশুসহ এক নারীসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর জর্ডানের সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ‘সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে’ পরিচালিত এ হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তাদের একাধিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে জর্ডানের সঙ্গে হামলার বিষয়ে কোনো সমন্বয়ের কথা অস্বীকার করেছে সিরিয়া সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার জানায়, ‘এই সামরিক অপারেশনটি কোনো পূর্ব সমন্বয় বা অবহিতকরণ ছাড়াই চালানো হয়েছে।’ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জর্ডানের এ অভিযানকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে এ ঘটনার পরিণতি মোকাবিলার চেষ্টা করবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চার স্থানে হামলা, নিহত সাত
সিরিয়ার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা হোয়াইট হেলমেটস জানিয়েছে, দারা ও সুওয়েইদা প্রদেশের চারটি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
দারা প্রদেশের আল-তাই গ্রামের একটি তাঁবুতে হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে তিন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
একই প্রদেশের আল-শাইয়াহ এলাকায় হামলায় ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। অন্যদিকে, সুওয়েইদা প্রদেশের শাহবা শহরে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি।
এ ছাড়া মুজায়রিব এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও হামলা চালানো হয়। তবে সেখানে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হেলমেটস।
সীমান্তপথ বন্ধ, গ্রেপ্তার তিন
বিমান হামলার পর জর্ডানের সঙ্গে সিরিয়ার সংযোগকারী প্রধান সীমান্তপথ নাসিব ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই পথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এর আগে জর্ডানের আল-জাদিদা গ্রামে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এরপর জর্ডান পুলিশ দুই ভাই ও তাঁদের ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করে। জর্ডানের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গোলাগুলির সময় সন্দেহভাজনরা গুরুতর আহত হন।
গির্জায় হামলার পর কঠোর ব্যবস্থা
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ গির্জায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার কারাকের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া শোকাহত ব্যক্তিদের ওপর তিন বন্দুকধারী গুলি চালায়। ওই হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন এবং আহত হন আরও অনেকে। এ ঘটনার জেরেই সিরিয়ায় জর্ডানের সামরিক অভিযান চালানোর ঘটনা সামনে আসে।