
তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দ্বীপটির প্রতি সমর্থন প্রকাশের কারণে প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী গুস্তাভো ভিলাতে ও বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিস ফনসেকার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। ঘোষণার দিন থেকেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, চীনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্পদ জব্দ, চীন ও বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
নিষেধাজ্ঞার আওতায় গুস্তাভো ভিলাতে ও ফ্রান্সিস ফনসেকার চীনে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি তারা হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ওই দুই মন্ত্রীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, সহযোগিতা কিংবা অন্য কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না বলেও জানানো হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, কিছু ‘চীনবিরোধী’ রাজনীতিক নিজেদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে উৎসাহিত করছেন। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দুই মন্ত্রী এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন, যা চীনের মৌলিক স্বার্থের পরিপন্থী।
তাইওয়ানের জাতীয় দিবস উদযাপন ঘিরে অসন্তোষ বেইজিংয়ের
তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ১২টি দেশের মধ্যে প্যারাগুয়ে ও বেলিজ রয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। তবে তাইওয়ানের সরকার বরাবরই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
তাইওয়ানের জাতীয় দিবস উদযাপনের দুই দিন পর চীনের এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এল। প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী গুস্তাভো ভিলাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাইওয়ানের জাতীয় দিবস উদযাপন করেন। সেখানে তিনি বলেন, অভিন্ন মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করছে প্যারাগুয়ে। এসব মূল্যবোধের মধ্যে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, তাইওয়ানে অবস্থিত বেলিজের দূতাবাস তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে একটি বার্তা প্রকাশ করে। এতে প্রবৃদ্ধি, নতুন সুযোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানানো হয়।
গত মাসে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং বেলিজ সফর করেন। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সফরে দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
আমেরিকা অঞ্চলে তাইওয়ানের অন্য আনুষ্ঠানিক মিত্রদের মধ্যে রয়েছে গুয়াতেমালা ও হাইতি। এ ছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলের তিনটি দ্বীপরাষ্ট্রের সঙ্গেও দ্বীপটির কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও মার্কিন আইন অনুযায়ী, দ্বীপটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
চীনের সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে তাইওয়ান যখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তখনই চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিকে দুটি যুদ্ধবিমান সরবরাহ করেছে। এ পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের প্রতি সমর্থন জানানো দেশগুলোর বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের নিষেধাজ্ঞা আঞ্চলিক কূটনৈতিক উত্তেজনার নতুন দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।