
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশার চেয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাকেই এখন তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ইরান ইস্যুতেই সব মনোযোগ
মঙ্গলবার (১২ মে) চীন সফরের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। তার প্রশাসনের সমস্ত শক্তি ও মনোযোগ এখন ব্যয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বন্ধ করার পেছনে।
যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ মার্কিনিদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার উদাসীনতা প্রকাশ করেন। তিনি সোজাসুজি বলেন, "আমি কাউকে নিয়ে ভাবি না।"
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির উল্টো পথে ট্রাম্প
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান তার নির্বাচনী প্রচারণার ঠিক বিপরীত। এতদিন তিনি ভোটারদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোর আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলসহ প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যখন আকাশচুম্বী, তখন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রভাব
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিরোধীদের দাবি, এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে ট্রাম্প সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। নির্বাচনের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে এমন সংবেদনশীল মন্তব্য তার জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।