
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসন। নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘বার্থ টুরিজম’ বা জন্ম পর্যটন ঠেকাতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা অভ্যন্তরীণ ই-মেইল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট দেশজুড়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যারা গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনকালে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে বা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই নীতির লক্ষ্য হলো সেই সব চক্রকে ভেঙে দেওয়া, যারা অন্য দেশের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে সন্তান জন্ম দিতে সহায়তা করে, যাতে ওই শিশু জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। যুক্তরাষ্ট্রে ভূমিষ্ঠ হলে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক রীতিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ‘জন্ম পর্যটন’ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রশাসনের মতে, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে এভাবে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না, তাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজে কোনো বেআইনি কাজ নয়। কিন্তু যদি কেউ ভিসা প্রতারণা, তথ্য গোপন বা ফেডারেল অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে এ কাজ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার বিষয়টি সেই নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।