
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী জানিয়েছেন, পারমাণবিক হামলার হুমকিতেও ইরান কোনোভাবেই আতঙ্কিত নয় এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীতে ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, চলমান সংঘাত শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর ওপর পরিকল্পিত আগ্রাসন।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্ররোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং এখন পরিস্থিতি প্রতিকূল হওয়ায় সরে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা এগোচ্ছিল বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু করে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
ব্রিফিংয়ে জাহানাবাদী জানান, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে আগ্রহী নয়, তবে প্রয়োজনে আত্মরক্ষায় সক্ষম।
রাষ্ট্রদূত আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের নামে ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও সাধারণ আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিরীহ শিশু বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তার দাবি অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা ১৪টি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনে সেগুলো ধ্বংস করেছে ইরান এবং ইউরেনিয়াম উদ্ধারের উদ্দেশ্যে চালানো মার্কিন অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি জানান, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও ইরান ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেও যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থানে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে তেহরানের।
জাহানাবাদী বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের ভাইপ্রতিম দেশ, তাই সংকটের সময়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, বরং এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নিন্দা জানানো প্রয়োজন ছিল।’ তিনি সতর্ক করে দেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও একই ধরনের আগ্রাসনের শিকার হতে পারে।
তিনি আরও জানান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ইরান স্বাগত জানিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবে এখনো কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি।
শেষে রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই সংস্থা ও নিরাপত্তা পরিষদ শক্তিধর দেশগুলোর প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তিনি মন্তব্য করেন, অভিজ্ঞতা থেকে ইরান শিখেছে যে সংকটে নিজেদের ওপরই নির্ভর করতে হয়।
ইরান কোনো প্রতিবেশী দেশে আক্রমণ চালাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। বরং যারা নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, ইরানের এই অবস্থান বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করা হবে।