
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরানকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করছে রাশিয়া। আমেরিকান বার্তাসংস্থা সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। জনপ্রিয় ইহুদিবাদী সংবাদপত্র ইয়োদিওথ আহরোনাথের অনলাইন সংস্করণ ওয়াইনেট নিউজে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে জেলনেস্কি বলেন, “মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলার জন্য ইরান রাশিয়ার তৈরি শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে এ কথা ‘শতভাগ সত্য।”
মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে হামলার জন্য এরআগেও শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই ড্রোনগুলো কারা তৈরি করেছে তা পরিস্কার নয়। দামি ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশ সস্তা শাহেদ ড্রোনের পথিকৃত ইরান। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসনের সময় সর্বপ্রথম এই ড্রোনটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়। ইউক্রেনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের শরৎকাল থেকে রাশিয়া হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
যদিও শুরুতে ইরান এই ড্রোন সরবরাহ করেছিল। তবে বর্তমানে রাশিয়া নিজেরাই শাহেদ ড্রোন উৎপাদন করছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীও শাহেদ ধরনের ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে।
এদিকে জেলেনস্কি এমন সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন কি না ইসরায়েল ইরানি নকশার ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। ইসরায়েলি ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুরোধ জানিয়েছেন। ড্রোন প্রতিরক্ষা বিষয়ে সমন্বয় জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইয়েভগেন কর্নিচুক জানান, ফোনালাপের অনুরোধ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তবে সময়সূচির জটিলতার কারণে এখনো কথা হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সপ্তাহের শুরুতেই দুই নেতা কথা বলবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের ব্যাপক বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ও প্রতিরোধী ড্রোনসহ বিভিন্ন কৌশল তৈরি করেছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত কর্নিচুক জানান, ইউক্রেন এরইমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে। ইরানি হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সংস্থাগুলোর আলোচনা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে নেই। অঞ্চলজুড়ে ইরানি হুমকি মোকাবিলায় আমরা সহযোগিতা বাড়াচ্ছি।”
শুক্রবার প্যারিসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখোর সঙ্গে বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা বিশ্বকে দিতে ইউক্রেন প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা ইউক্রেনের রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, কার্যকর প্রতিরক্ষার জন্য কেবল ইন্টারসেপ্টর নয়, প্রশিক্ষিত জনবল, রাডার এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগ তুলে পাল্টা হুমকি দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, ইসরায়েলকে সহায়তা করলে ইউক্রেন বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ড্রোনের মাধ্যমে ইসরায়েলি শাসনকে সহায়তা দিয়ে ভেঙে পড়া ইউক্রেন বাস্তবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এতে ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ডই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।”
তবে ইউক্রেন ঠিক কীভাবে ইসরায়েলকে সহায়তা করছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলেননি।