
আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে প্রতিবেশি দুই দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। এই লড়াইয়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পাকিস্তান প্রকাশ্যে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা শহরে পাকিস্তান হামলা চালায়। ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি ছিল ‘আফগান হামলার’ জবাবে তাদের ‘পাল্টা হামলা’।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যৌথ সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এ অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও অনেককে আটক করা হয়েছে। তালেবান সূত্রে জানানো হয়, উপ-আমিরের নির্দেশে রাত ১২টার দিকে হামলা বন্ধ করা হয়। তবে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সেনা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ নিয়েও আগের মতোই দুই দেশ একে অপরকে প্রথমে হামলা চালানোর জন্য দায়ী করছে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। আফগান শহরগুলোতে একাধিক বিমান হামলার পর এবং পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা বলেন, “পাকিস্তান সরাসরি উপায়ে এবং বন্ধু দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনীতি চালানো হয়েছে। তবে এবার আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ।”
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় আফগানিস্তানের ১৩৩ জন যোদ্ধা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ হামলায় তাদের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সীমান্তজুড়ে চলমান এই সংঘাত দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।