
একটি দুই বছরের শিশুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ভূমিকা আবারও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফেডারেল আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মিনিয়াপোলিস থেকে এক শিশুকন্যা ও তার বাবাকে আটক করে টেক্সাসে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি, যখন মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সদস্য জেসন শ্যাভেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, আইসিই সদস্যরা আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এই পদক্ষেপ নেয়।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র পরে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এলভিস জোয়েল টিপান এচেভেরিয়া এবং তার মেয়ে ক্লো রেনাটা টিপান ভিলাসিস বর্তমানে হেফাজতে ছিলেন।
আদালতের নথি ও পরিবারের আইনজীবীদের বিবরণে অভিযানের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আইনজীবী কিরা কেলি জানান, বৃহস্পতিবার বাবা ও মেয়ে বাসায় ফেরার পর কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই আইসিই এজেন্টরা বাড়ির পেছনের উঠান ও ড্রাইভওয়েতে প্রবেশ করেন। সে সময় শিশুটি গাড়ির ভেতরে থাকলেও একজন এজেন্ট বাবার গাড়ির কাচ ভেঙে দেন।
কেলি আদালতে দাখিল করা নথিতে লেখেন, ‘মা দরজার কাছে ছিলেন এবং এজেন্টরা এগিয়ে এলে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এজেন্টরা বাবাকে তার মেয়েকে মায়ের কাছে বা ঘরের ভেতরে ভয়ে অপেক্ষা করা অন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেননি।’
এরপর বাবা ও শিশুটিকে এমন একটি গাড়িতে তোলা হয় যেখানে শিশুর জন্য কোনো সিট ছিল না বলে অভিযোগ করেন কেলি। শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা প্রকাশ করে তাকে মুক্ত করার দাবিতে আইনজীবীরা দ্রুত জরুরি আবেদন করেন।
মিনেসোটার এক ফেডারেল বিচারক রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন যাতে বাবা ও শিশুকে রাজ্যের বাইরে স্থানান্তর করা না হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আরেকটি আদেশে বিচারক শিশুটিকে অবিলম্বে কিরা কেলির অস্থায়ী জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদেশে বিচারক ঘটনার জরুরি গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, শিশুটির ক্ষেত্রে “অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি” রয়েছে এবং টডলারের কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস নেই। তবে পরিবারের আইনজীবীদের অভিযোগ, এই আদেশ জারির পরও রাত প্রায় ৮টা ৩০ মিনিটে আইসিই বাবা ও মেয়েকে বিমানে করে টেক্সাসে পাঠিয়ে দেয়।
পরে কর্তৃপক্ষ তাদের আবার মিনেসোটায় ফিরিয়ে আনে। শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে বাবা এখনও আটক রয়েছেন বলে জানান আরেক আইনজীবী ইরিনা ভেইনারম্যান। তিনি বলেন, ‘এই ভয়াবহতা কল্পনাতীত। পুরো ঘটনার নিকৃষ্টতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
সূত্র: প্রেস টিভি, গার্ডিয়ান