
গাজা সংকট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্প নতুন ধরনের জাতিসংঘ গঠনের চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ নামে একটি উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ৫৬তম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে এই উদ্যোগের সনদে সই করেন ট্রাম্প। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের আরও ১৯ দেশের নেতা এই সনদে স্বাক্ষর করেন। তাদের মধ্যে দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও রয়েছেন। গাজায় গণহত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। গাজা সংকট সমাধানের বাইরে এই পর্ষদের কার্যপরিধি কতটুকু, এটি ভবিষ্যতে কী ধরনের ভূমিকা পালন করবে এবং এটি জাতিসংঘের বিকল্প কোনো আন্তর্জাতিক কাঠামো কি না—এসব প্রশ্ন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা জোরদার হয়েছে।
এই সমালোচনায় এবার প্রকাশ্যে যুক্ত হলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘকে ঠিক করার বদলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন জাতিসংঘ তৈরির প্রস্তাব দিচ্ছেন। যেখানে একমাত্র তিনিই মালিক।’
এ সময় ট্রাম্পের যোগাযোগশৈলী নিয়েও সমালোচনা করেন লুলা। তিনি বলেন, ‘এটি উল্লেখযোগ্য যে, তিনি প্রতিদিন কিছু বলেন এবং বিশ্ব প্রতিদিন এ নিয়ে কথা বলছেন।’ পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন, ট্রাম্প ‘টুইটারের মাধ্যমে বিশ্ব শাসন করতে চান’।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপে লুলা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত পরশু দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও বেরিয়ে গেছে।
এদিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি জোরালোভাবে প্রয়োগের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। এই নীতির অংশ হিসেবে তিনি শুল্ক আরোপ ও সামরিক হুমকিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন। এসব পদক্ষেপ এতটাই কঠোর যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন—ওয়াশিংটনের ওপর তারা আদৌ কতটা আস্থা রাখতে পারবেন।