
গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের টানাপোড়েনে রাশিয়া কোনো পক্ষ নেবে না—এ কথা স্পষ্ট করে জানালেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, এই বিরোধ মস্কোর বিষয় নয় এবং সমাধানও করতে হবে সংশ্লিষ্ট দুই দেশকেই।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পুতিন বলেন, গ্রিনল্যান্ড কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে—তা রাশিয়ার উদ্বেগের বিষয় নয়। তাঁর ভাষায়, ‘গ্রিনল্যান্ডে কী হচ্ছে, তা আমাদের একেবারেই কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়।’ একই সঙ্গে তিনি ডেনমার্কের সমালোচনা করে বলেন, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে কার্যত উপনিবেশের মতো শাসন করেছে এবং সেখানে কঠোর, এমনকি নিষ্ঠুর আচরণ করেছে।
এই বক্তব্য এলো এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার শক্ত অবস্থান থাকলেও এই ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের দূরত্ব বাড়ায় মস্কো কূটনৈতিকভাবে সন্তুষ্ট।
এদিকে ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নেন। ডেনমার্কের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এসে তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেন। বরং আধা-স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সমঝোতার পথে অগ্রগতির ইঙ্গিত দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু কয়েক দশকের মধ্যে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংকটে রূপ নিতে পারত।
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে পুতিন অতীতের নজির টেনে বলেন, ভূখণ্ড বিক্রির ঘটনা ইতিহাসে আছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলাস্কা বিক্রি করেছিল। একইভাবে ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভার্জিন আইল্যান্ডস বিক্রি করে।
এই উদাহরণ উল্লেখ করে পুতিন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি, গ্রিনল্যান্ডের বিশাল আয়তন ও স্বর্ণের দামের পরিবর্তন বিবেচনায় নিলে দ্বীপটি কিনতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার লাগতে পারে। তাঁর মন্তব্য, ওয়াশিংটনের সেই অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করতেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে মস্কো। যদিও ডেনমার্ক ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়ায় রাশিয়া অসন্তুষ্ট, তবু ট্রাম্পের পরিকল্পনার সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে গেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আগেই বলেছিলেন, সম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ডেনমার্কের স্বাভাবিক অংশ নয়। তবে মস্কোর অবস্থান পরিষ্কার—গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের আলোচনায় রাশিয়া কোনো পক্ষ নেবে না। পুতিনের কথায়, ‘তারা নিজেদের মধ্যেই বিষয়টি মিটিয়ে নেবে।’