
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলা এক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অবস্থিত উচ্চ নিরাপত্তার মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে তাকে ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে নিউইয়র্কের একটি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটানের ওয়েস্টসাইড হেলিপোর্টে আনা হয়। সেখান থেকে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিইএর সদর দপ্তরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে প্রাথমিক আইনি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে।
নিউইয়র্কের এই কারাগারটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কুখ্যাত ও সুরক্ষিত আটককেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। সাধারণত উচ্চপ্রোফাইল ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দীদের এখানে রাখা হয়। অতীতে পপ তারকা আর কেলি, যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং সাম্প্রতিক সময়ে র্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বস এই কেন্দ্রেই বন্দী ছিলেন।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত এক অভিযানে নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর থেকেই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আগামী সপ্তাহে ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অভিযোগ প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে।
এদিকে ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মার-আ-লাগো বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছে এ বিষয়ে অনেক ‘জোরালো প্রমাণ’ রয়েছে। তার মতে, পুরো ঘটনাটি একদিকে ‘ভয়াবহ’, অন্যদিকে ‘হতবাক করে দেওয়ার মতো’।