
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা আরও বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আধুনিক প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে সামনে রেখে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এডুকেশন হাউস ইউএনজিএ ৮১ আয়োজিত এক বৈশ্বিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। ‘এমপাওয়ারিং টিচার্স ইন লো-রিসোর্স ক্লাসরুমস টু কো-ডিজাইন এডটেক ফর স্টুডেন্ট-সেন্টার্ড লার্নিং’ শীর্ষক ওই সংলাপে শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং স্বল্প-সম্পদসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর। তবে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের সবচেয়ে আগে দক্ষ করে তুলতে হবে। প্রযুক্তি কখনো শিক্ষকের বিকল্প নয়, বরং এটি শিক্ষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর হাতিয়ার। বিশেষ করে স্বল্প-সম্পদসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার প্রয়োজন।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেন কেবল প্রযুক্তি পরিচালনার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ না রাখেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের উদ্ভাবনী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৈশ্বিক সংলাপে অংশ নেন মালদ্বীপ ও ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা
আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মালদ্বীপের শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. আহমেদ মোহামেদ।
এ ছাড়া আলোচনায় ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবের কার্যালয়ের স্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ইনিশিয়েটিভস বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অ্যালেক্স ওয়ং এবং ইউনেস্কোর পলিসিজ অ্যান্ড লাইফলং লার্নিং সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক বোরহানে চাকরুন।
শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে সংযোগ তৈরির তাগিদ
এরপর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আরেকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। ‘ফ্রম ক্লাসরুম টু ইকোনমি: মডার্নাইজিং বাংলাদেশ’স এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস-টার্নিং লার্নিং ইনটু জবস, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইকোনমিক স্ট্রেংথ’ শীর্ষক ওই আয়োজনে বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত শিক্ষা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতার মধ্যে কার্যকর একটি যোগসূত্র তৈরি করা জরুরি।
তার মতে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা শিক্ষা থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে শুধু ব্যক্তিগত সক্ষমতা হিসেবে না রেখে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে পারে।
কর্মমুখী শিক্ষা ও অর্থনীতির সঙ্গে শিক্ষার সম্পৃক্ততা
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।