
বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ঋণসহায়তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া আগামী কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।
তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের ভবিষ্যৎ করণীয় এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ নিয়ে ঢাকাতেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, চলমান কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সংস্থাটির সমঝোতা রয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের নেওয়া নীতির প্রতিও বিশ্বব্যাংকের সমর্থন রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে বিশ্বব্যাংক
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিকূলতাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্বব্যাংক বুঝতে পারছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার যেসব নীতি গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত। বাংলাদেশের পাশে থাকতে সংস্থাটি আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এ নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশও নিজেদের অবস্থান ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা সরকারের
মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে আমির খসরু বলেন, সরকার কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার দেওয়া প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। এসব সংস্থা নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে যে পূর্বাভাস ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।