
বিশ্ববাজারে আবারও সোনার দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫,০০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত ডলারের দুর্বলতার প্রভাবে এই উত্থান লক্ষ্য করা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট গোল্ডের দাম ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ৫,০১২.৭৬ ডলার পৌঁছেছে। এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ৫০৩৩.৮০ ডলারে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত দুই দফা সুদহার কমাতে পারে। সুদহার কমার ফলে সাধারণত সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা বাড়ে, যা মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
রুপার বাজারেও তাৎপর্যপূর্ণ বৃদ্ধি দেখা গেছে। সোমবার রুপার দাম ৪.৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৮১.৫৪ ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধিকে বাজার বিশ্লেষকরা ডলারের দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত করছেন।
অন্যদিকে, প্লাটিনামের দাম সামান্য কমেছে এবং এটি আউন্সপ্রতি ২০৯০ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরবরাহ ও চাহিদার বৈশ্বিক অবস্থার সঙ্গে যুক্ত ফ্যাক্টরগুলো এই দাম পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দামের এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীরা যখন অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশের মুখোমুখি হন, তারা প্রায়ই সোনার মতো নিরাপদ সম্পদে অর্থ বিনিয়োগ করেন। এ ধরনের সময়েই সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে মূল্যও বাড়ে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও আন্তর্জাতিক বাজারের এই ধারা প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় গহনার দোকান এবং স্টক এক্সচেঞ্জে সোনার দাম সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সুদহার সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত, ডলারের মান ও বিশ্ববাজারের অন্যান্য ধাতব দামের ওঠাপড়া সোনার বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করাই সময়ের দাবি।