
৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুরু হয়েছে, দর্শনার্থীরা দুপুরের দিকে মেলায় প্রবেশ করতে শুরু করেছেন। তবে মেলার অনেক স্টল এখনো সম্পূর্ণরূপে সাজানো হয়নি, এবং বেশ কিছু স্থান এখনও খালি দেখা যাচ্ছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন মেলার উদ্বোধন করেন।
মেলার মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করলে ডানদিকে কিছু স্টল এখনও প্রস্তুত হয়নি। কাঠের সামগ্রী দিয়ে সাজসজ্জার কাজ চলছিল, এবং খালি স্থানগুলো এখনো স্টল বসানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে এক্সিবিশন সেন্টারের মূল ভবনের ডান ও বাম পাশে। উত্তর দিকের খোলা স্টলগুলোতেও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। মাটিতে ইট-বালুর মিশ্রণ রাখা ছিল, যা মেলার নতুন শুরু হওয়ার প্রমাণ দিচ্ছিল।
সরাসরি দেখা গেছে, এসএমসি এন্টারপ্রাইজের স্টলের সাজসজ্জা চলছিল। ঠিকাদার রানা হোসেন বলেন, “শেষ মুহূর্তে এসে স্টলটির ডিজাইনে একটু পরিবর্তন এসেছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর প্রতিবারই মেলার প্রথম দিনে সব স্টলের কাজ শেষ হয় না। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কাজ চলবে আরও কয়েক দিন।”
কিয়াম নামের স্টল প্রায় পুরোপুরি খালি ছিল, সেখানে কোনো পণ্য রাখা হয়নি। পূর্ব পাশের এনএস ফুটওয়্যার স্টল পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। পশ্চিম পাশের নামবিহীন স্টলেও কোনো পণ্য চোখে পড়েনি। এমন দৃশ্য মেলার বিভিন্ন স্থানে নজরে এসেছে।
অনেক স্টলের পাশে দায়িত্বরত কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না, যারা ছিলেন, তারা কথোপকথনে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মেলা মাত্র শুরু হয়েছে এবং প্রথম কয়েক দিন সাজসজ্জার কাজ চলবে। কমপক্ষে সাতদিন বিভিন্ন স্টলে সাজসজ্জার কাজ চলবে।
এবার দেশের সরকারপ্রধান মেলার উদ্বোধন করেননি। গত বছর ২৯তম ঢাকার মেলা উদ্বোধন করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নতুন বছরে পেপার এবং প্যাকেজিং পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, “প্রতি বছর রপ্তানিতে অবদান ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্য বা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত ও বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রপ্তানি প্রসার ও প্রণোদনামূলক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে প্রতি বছর একটি পণ্যকে প্রডাক্ট অব ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘোষিত পণ্যের উৎপাদন-বিপণনে উৎসাহিতকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এবার পেপার এবং প্যাকেজিং প্রোডাক্টকে ২০২৬ সালের প্রোডাক্ট অব দ্যা ইয়ার হিসেবে ঘোষণা করছি।”
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।