 মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান.jpg)
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় জামিন পাননি জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫-এর বিচারক সাদেকীন হাবীব বাপ্পী তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করেন।
আখতারুজ্জামানের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির, আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও তাঁর জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গত ৪ অক্টোবর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে গত ২ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। একই দিন নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
লাগেজ ও জমজমের পানি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে নেমে লাগেজ সংগ্রহের সময় যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় ট্রলি পেতে তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়।
লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন।
নির্বাহী পরিচালক সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এ সময় তিনি হুমকিমূলক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হুমকি দেন। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন।
নিরাপত্তাকর্মীকে আঘাতের অভিযোগ
বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাসংবেদনশীল এলাকায় ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে আখতারুজ্জামানের সঙ্গীদের অনুরোধ করেছিলেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এ সময় আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁর সঙ্গেও আখতারুজ্জামান উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানি রাখা বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার কথাও এজাহারে বলা হয়েছে।
মামলার বাদীর অভিযোগ, এসব ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।