
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের দায়ে সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় এখন যেকোনো দিন এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
আদালতের কার্যক্রম ও বেঞ্চ
বৃহস্পতিবার (১৪ মে), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি লড়াই শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য মামলাটিকে অপেক্ষমাণ (CAV) রেখেছেন। অর্থাৎ, রায় প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা না করলেও যেকোনো দিন আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন।
যুক্তি-তর্ক ও আইনি প্রতিনিধি
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে লড়ছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ একদল আইনজীবী। অন্যদিকে, হাসানুল হক ইনুর পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, সিফাত মাহমুদ শুভ ও আবুল হাসান। গত ২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক এবং পরবর্তী সময়ে প্রসিকিউশনের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমেই এই বিচারিক ধাপ সম্পন্ন হলো।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে উসকানি, প্ররোচনা এবং হত্যার ষড়যন্ত্র। জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন কুষ্টিয়া শহরে সহিংসতায় প্রাণ হারানো ছয়জন হলেন—
শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম
সুরুজ আলী বাবু
শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন
উসামা
ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী
চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে ইনুর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই আটটি অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কাজ শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন।
এখন কুষ্টিয়ার সেই ছয় পরিবারের বিচার পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ট্রাইব্যুনালের কলম থেকে কী রায় আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশবাসী।