
৮১ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে বয়স বিবেচনায় চারটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট। তবে জামিনের শর্ত ভঙ্গ হলে সিএমএম কোর্ট তাঁর জামিন বাতিল করতে পারবে।
বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের দ্বৈত বেঞ্চ এ জামিনের রায় দেন। হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন থাকায় বর্তমানে তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।
এর আগে ৮ মার্চ হাইকোর্ট জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির চারটি মামলায় খায়রুল হকের জামিন দেন। ওইদিন তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল ঘোষণা করে একই বেঞ্চ রায় দেন।
পরবর্তী সময়ে ১২ মার্চ ঢাকার একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে শুনানি আগামী ৩০ মার্চ হতে পারে। ফলে চারটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরও খায়রুল হক এখনও মুক্তি পাননি।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। এছাড়া ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভুঁইয়া মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট জনৈক নুরুল ইসলাম মোল্লার পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। এছাড়া ৪ আগস্ট দুর্নীতির অভিযোগে প্লট জালিয়াতির মামলায় দুদকও সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। গত রোববার এই মামলায়ও আদালত তাকে জামিন দেন।
সব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন অস্বীকার হওয়ার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন বিষয়ে রুল জারি করেন এবং ৮ মার্চ সেই রুলের প্রেক্ষিতে চারটি মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেওয়া হয়।