
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোররাত ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার দুধ বাজার এলাকায় নদীর ঘাটে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাঙ্গা বাজার চালপট্টি হরিমন্দির যুব সংঘ ও কুমারপট্টি তরুণ সংঘের আয়োজনে কাছাকাছি দূরত্বে থাকা দুটি পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে পূজা শেষ হয়। পরে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টার দিকে প্রথমে হরিমন্দির যুব সংঘের সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নদীর ঘাটে যান। কিছু সময় পর সেখানে উপস্থিত হন কুমারপট্টি তরুণ সংঘের সদস্যরাও।
রাস্তার ওপর প্রতিমা রাখা নিয়ে বিরোধ
ঘাটে যাওয়ার পর তরুণ সংঘের একটি প্রতিমা রাস্তার ওপর রাখা হয়। এ সময় হরিমন্দিরের সভাপতি স্বপন দাস প্রতিমাটি সরিয়ে রাখতে বললে আপত্তি জানান তরুণ সংঘের সভাপতি সুব্রত রায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রতিমাটি সরকারি রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে, তাই সেটি সরানোর প্রয়োজন নেই। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে কুমারপট্টি তরুণ সংঘের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য লাঠিসোঁটা নিয়ে হরিমন্দির যুব সংঘের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে হরিমন্দির যুব সংঘের সভাপতি তপন দাসসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে তিনজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য একজনকে নেওয়া হয়েছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বাকি আহত ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে হরিমন্দিরের সভাপতি স্বপন দাস বলেন, আমিসহ আমার স্ত্রী, ভাই ও আমাদের ১০ জন লোক আহত হয়েছেন। সামান্য ঘটনা নিয়ে তরুণ সংঘের সভাপতি সুব্রত রায়ের নির্দেশে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনার বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তরুণ সংঘের সভাপতি সুব্রত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।