
‘মদাতী চেয়ারম্যান বিপ্লব ভাই বলছেন; আমাকে তো আবার চিনেন না, চিনবেনও না, আপনি আমাকে দেখেনও নাই হয়তো– যাই হোক আপনি এমপি সাহেবের থার্টি পারসেন আমাদের লোককে বোঝাই দিছেন কি? অপরপ্রান্তে থাকা চেয়ারম্যান বিপ্লব বলেন, না, থার্টি পারসেন না, আমরা মিটিংয়ে বসেছিলাম তো।
অন্যপ্রান্ত থেকে জবাব আসে, আমাদেরটা নিয়ে আপনারা কেন মিটিং করবেন? আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীসের মিটিং করেন? এক হাজার তিনটি টোকেন আপনি বোঝাই দিবেন।’
সম্প্রতি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুজ্জামান সবুজ ও মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের এমন কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে মদাতী ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের অপর একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। এতে তারা ভিজিএফের চালে এমপির বরাদ্দ নিয়ে কথা বলেন। এতে শোনা যায়, বিএনপি নেতা বিধান চন্দ্র রায় বলছেন, এমপির বরাদ্দ হলো এক হাজার তিনটা। এ সময় চেয়ারম্যান বিপ্লব জানান, বিগত সময়ে ৪০০ করে নাম দেওয়া হয়েছিল। কথার জবাবে বিধান চন্দ্র রায় এমপির মামা সবুজের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন বিপ্লবকে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সামছুজ্জামান সবুজের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করেও সাড়া মেলেনি। তবে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মোবাইল রেকর্ডিং নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
অডিও রেকর্ডিংকে ভুয়া বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ভিজিএফ প্রসঙ্গে এমপির বরাদ্দ নিয়ে কারও সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ, অতিদরিদ্র পরিবারকে ভিজিএফ খাদ্যশস্য (চাল) সহায়তা প্রদানে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ২২ হাজার ৮৬৪টি কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা। এর মধ্যে মদাতী ইউনিয়নে তিন হাজার ৩৪৫টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জের ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান বলেন, স্থানীয় এমপিকে ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়টি অবহিত করতে হয়। এখানে থার্টি পারসেন্ট কোটার কথা বলা নেই। অডিও ভাইরাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা আমরাও শুনেছি, বিষয়টি বিব্রতকর।