
চট্টগ্রামের রাউজানে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মুহুর্মুহু ফাঁকা গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কদলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ২৫-৩০ জনের একটি দল সারিবদ্ধভাবে একটি গ্রামের ভেতর এগোতে এগোতে গুলি ছুড়ছে। ভিডিওতে অন্তত ১৩টি গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় আশপাশের বাড়িঘর থেকে নারী ও শিশুদের চিৎকারের আওয়াজও ভেসে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয় কেউ দূর থেকে গোপনে ভিডিওটি ধারণ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর প্রতিপক্ষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি এবং এলাকায় আধিপত্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ গুলির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব সউম আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের নেতৃত্বে কদলপুর এলাকায় সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী, এজেন্ট ও সমর্থকদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সূত্র জানায়, রায়হান চট্টগ্রাম মহানগরী ও রাউজানে একাধিক হত্যা মামলার পলাতক আসামি। একটি রাজনৈতিক দলের এক নেতার প্রশ্রয়ে থাকা এই শীর্ষ সন্ত্রাসী ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ধারাবাহিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সেখানে রুস্তম নামে একজনের ঘরে গিয়ে পাঁচ-ছয়জন সন্ত্রাসী গালিগালাজ করার পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে বলে শুনেছি। এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি। তবে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা এখনো সম্ভব হয়নি। আমরা কাজ করছি।’