
লক্ষ্মীপুর সদরের চরশাহী ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলার ঘটনায় শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় রাতে জেলা সদর হাসপাতালে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিলে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
খবর পেয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সদর হাসপাতালের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর তেমুহনী এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে শহর জামায়াতের আমীর এডভোকেট আবুল ফারাহ নিশান, শহর ছাত্র শিবিরের সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাছির উদ্দীন মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে এই ধরণের হামলা ন্যাক্কারজনক। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
জামায়াত নেতা মা. হেজবুল্লাহ সোহেল বলেন, আমাদের পূর্বঘোষিত নারীদের নিয়ে সভা ছিল। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা এসে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় আমাদের ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
বিএনপি নেতা সাইফুজ্জামান শরীফ বলেন, চরশাহী ইউনিয়নে আমাদের একটা প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে কয়েকজন এসে জানান যে এখানে টিসিবির মালামাল দেওয়ার সময় নারীদের কাছ থেকে ভোটার আইডি এবং ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। আমরা এসে এটা জিজ্ঞেস করার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এসে হামলা করে আমাদের ৪ জনকে আহত করে।