
আলোচিত জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর মামলার তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তার কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি হয়েছে কি না—তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফজলুল মাহদী।
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাক ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সুরভীর বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো এবং রিমান্ড আবেদন করার অভিযোগ ওঠার পর গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আদালত এ নির্দেশ দেন। একই দিন বিকেলে আদালতের পক্ষ থেকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত নির্দেশনাও পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২৮ ডিসেম্বর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়। এরপর ৫ জানুয়ারি শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরভীর জন্মসনদ ছড়িয়ে পড়লে তার বয়স নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এরপর রিভিশন আবেদন করা হলে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে সুরভীকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
গাজীপুর জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান জানান, সুরভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তে এসআই ওমর ফারুকের কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে এবং এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় নাইমুর রহমান দুর্জয় নামের এক যুবকের করা মামলায় জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ ডিসেম্বর টঙ্গীতে নিজ বাসা থেকে যৌথবাহিনী সুরভীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানার হেফাজতে রাখা হয়। সেখান থেকে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ তাকে গ্রহণ করে আদালতে হাজির করে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সুরভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চাঁদাবাজি, অপহরণের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং ব্ল্যাকমেইলিংসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।