
দল যদি মনে করে আমার সেবার আর প্রয়োজন নেই, তাহলে সেটাই মেনে নিলাম। আমি আমার মতো করেই রাজনীতি চালিয়ে যাব। বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা পাওয়ার পর এমন মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমা দেওয়া ১১ জন প্রার্থীর সকল মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তার পর রুমিন ফারহানা সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে তার ভাবনাগুলো শেয়ার করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "মনোনয়ন না দেওয়ায় দলের প্রতি আমার কোনো কষ্ট বা ক্ষোভ নেই। দলের দুঃসময়ে আমি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করেছি। তিনি আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা অনেক সময় আমার বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার চেয়েও বড় ছিল। সেই দায়িত্ব পালনে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।"
রুমিন ফারহানা আরও জানান, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দল তাকে পদত্যাগের আহ্বান করলে তিনি তা দ্বিধা ছাড়াই মেনে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "দল যদি মনে করে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন, আমি সেটিকে স্বাগত জানাই। দল যদি ভাবছে আমার সেবার আর প্রয়োজন নেই, সেটিও আমি মেনে নিলাম।"
সাম্প্রতিক কিছু অভিযোগ সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেছেন। রুমিন ফারহানা বলেন, কিছু জায়গায় তার কর্মীদের বলা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে হয়তো মামলা করা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, "এমন কিছু হলে অবশ্যই প্রশাসনকে জানাব। যদি কোনো ঘটনা আমার নির্বাচনী প্রচার বা নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, সে ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা (হাঁস প্রতীক) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন।
রুমিন ফারহানা বিগত ১৭ বছর ধরে দলের বিভিন্ন দায়িত্বে সক্রিয় ছিলেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথে এগিয়েছেন, যদিও বিএনপি তাকে বহিষ্কার করেছে। এখন মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে তিনি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে গণসংযোগ শুরু করেছেন। তার প্রতীক হাঁস নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শিগগিরই আশা করা হচ্ছে।