
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সম্পূরক বৃত্তির অর্থ হাতে পেতে যাচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বৃত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
শনিবার (৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানার সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে সম্পূরক বৃত্তি ছাড়াও টিএসসি সংস্কার, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি এবং পুরান ঢাকায় নির্মাণাধীন দুটি আবাসিক হলের কাজ নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় উপাচার্য জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত সম্পূরক বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করছে। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার থেকে টিএসসি সংস্কার কার্যক্রমও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, “চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যাকাল্টিভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণ পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, আবাসন সংকট নিরসন ও আবাসন ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন জবি শিক্ষার্থীরা। গত বছরের যমুনা ঘেরাও কর্মসূচির পর শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৬ কোটি টাকার আবাসন বৃত্তি বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় সম্পূরক বৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎ শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সম্পূরক বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের পাশাপাশি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি শিগগিরই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবো।”
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আবাসন সংকট জবি শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় সমস্যা। সম্পূরক বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কিছুটা লাঘব করবে।”
জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন ও যৌক্তিক দাবির ফলেই বৃত্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে।”
এজিএস মাসুদ রানা বলেন, “শুধু বৃত্তি নয়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, টিএসসি সংস্কার ও আবাসিক হল নির্মাণকাজও দ্রুত সম্পন্ন হওয়া জরুরি।”