
তীব্র ও অসহনীয় দাবদাহে যখন পুড়ছে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, ঠিক তখনই দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য এক স্বস্তিদায়ক সুখবর দিল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। রাজধানী দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পারদ যখন ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, তখন স্বস্তির বার্তা নিয়ে ধেয়ে আসছে বৃষ্টির মেঘ। শুক্রবার (২২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইএমডির ‘ইনস্যাট-থ্রিডিএস’ উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ চিত্রে দেখা গেছে, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের ওপর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিশাল আকৃতির মৌসুমি মেঘমালা তৈরি হচ্ছে, যা ক্রমেই ভারতীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই মেঘমালার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দিন দিন আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছুটা আগেই ভারতের কেরালা রাজ্যে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দক্ষিণ আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ঘন মেঘের চাদরে ঢাকা পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগরের ওপর মেঘের তীব্র ঘনঘটা বা জটলা তৈরি হয়েছে, যা মূলত কেরালায় মৌসুমি বায়ু নিয়ে আসার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। মূলত ভারতের স্থলভাগের চরম উত্তাপের ফলেই ভারত মহাসাগর থেকে আর্দ্রতাযুক্ত বাতাস প্রবল বেগে মহাদেশের দিকে এই মেঘকে টেনে আনছে।
আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, স্থলভাগের অতিরিক্ত গরমের কারণে ভারত মহাসাগরের আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে এবং বায়ুমণ্ডলে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করছে। এটি মূলত আসন্ন ভারী বর্ষণের একটি আগাম ও শক্তিশালী সংকেত।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ চলছে। বিশেষ করে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, ওড়িশা এবং বিদর্ভ অঞ্চলের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে।