
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির একটি রাসায়নিক কারখানায় বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানে ঠাসা একটি বিশালাকার ট্যাংককে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে অত্যন্ত বিপজ্জনক এই কনটেইনারটি ফেটে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ওই এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ওই কারখানার একটি ট্যাংকে বর্তমানে প্রায় সাত হাজার গ্যালন অতি দাহ্য রাসায়নিক উপাদান ‘মিথাইল মেথাক্রাইলেট’ মজুত রয়েছে। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত এই রাসায়নিকটির অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে ট্যাংকটির ভেতরের তাপমাত্রা ও চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় গার্ডেন গ্রোভ অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাকে অনতিবিলম্বে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানমালের সুরক্ষায় ওই এলাকার সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং কয়েকটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করে রেখেছে প্রশাসন।
উড়োজাহাজ ও মহাকাশযানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী বিখ্যাত বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান জিকেএন অ্যারোস্পেস পরিচালিত এই কারখানাটির অবস্থান বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ডিজনিল্যান্ড রিসোর্ট থেকে মাত্র পাঁচ মাইল দূরে। তবে আশার কথা হলো, বিনোদনদায়ক এই থিম পার্কটি এখন পর্যন্ত ঝুঁকিমুক্ত সীমানার বাইরে থাকায় এর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।
আশপাশের বাতাসে এই রাসায়নিকের কোনো প্রকার উপস্থিতি বা গন্ধ অনুভূত হলে দ্রুততার সাথে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন অরেঞ্জ কাউন্টির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেজিনা চিনসিও-কোয়ং। উদ্ভূত স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তিনি বলেন, ‘গন্ধ পেলেই যে তা ক্ষতিকর মাত্রায় পৌঁছে গেছে, এমন নয়। তবে আমরা চাই না, কেউ এই গন্ধের সংস্পর্শে আসুক।’
চিনসিও-কোয়ং আরও সতর্ক করে জানান, বাতাসে ভেসে বেড়ানো এই রাসায়নিকের তীব্র বাষ্প বা ধোঁয়া নিঃশ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করলে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া ও মাথা ঘোরার মতো নানাবিধ শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা নিয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির ফায়ার সার্ভিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ক্রেইগ কোভি জানান, ট্যাংকের ভেতরের পারদ বা তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ওপরে উঠছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ট্যাংকটিকে ঠাণ্ডা রাখতে অবিরাম পানি ছিটানো হচ্ছে; এর পাশাপাশি রাসায়নিক কোনোভাবে বাইরে লিক হয়ে ছড়িয়ে পড়লে তা আটকে রাখতে চারদিকে বিশেষ নিরাপত্তামূলক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
ঝুঁকিতে থাকা এই কারখানাটির মূল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জিকেএন অ্যারোস্পেস মূলত যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বহুজাতিক কোম্পানি, যারা বিমান ও মহাকাশযানের বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে জানান যে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। এ ছাড়া স্থানীয় জনগণ, কারখানার কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা জরুরি সেবা বিভাগ, বিপজ্জনক পদার্থ বা কেমিক্যাল মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা বিশেষায়িত কমান্ডো দল এবং প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি