
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আলু চাষীদের যে পরিমাণ ভর্তুকি প্রয়োজন, সেই অর্থ দিয়েই গণভোট আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। অথচ গণভোটের চেয়ে আলু চাষীদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া বেশি জরুরি।”
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে গণভোট আয়োজনের বদলে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরি করা অনেক বেশি প্রয়োজন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব বাস্তব সমস্যার কথা বলার মতো দেশে কেউ নেই।”
তিনি দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্যে উল্লেখ থাকে, গ্লোবাল ভিলেজ যুগে তথাকথিত গণভোট নিয়ে গবেষণার পরিবর্তে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে টেকসই করার ওপর বেশি জোর দেওয়া উচিত।
নারী কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, “কর্মঘণ্টা কমানোর নামে নারীদের চাকরিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না তো? যদি পোশাক কারখানায় নারীরা ৮ ঘণ্টার বদলে ৫ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে বাকি সময়ের মজুরি কে দেবে? এতে কি তাদের কাজের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে না?”
তিনি বলেন, “গণভোটের চেয়ে নারীদের মধ্যে চাকরি সংকুচিত হওয়ার আতঙ্ক দূর করা এবং একজন কর্মহীনের জন্য চাকরি সৃষ্টি করা আজ সবচেয়ে জরুরি।”
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশে এখন গণভোট নয়, বরং কৃষক, শ্রমিক ও কর্মহীন মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানই প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের অধিকার হরণ করে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, তার জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।
তিনি উল্লেখ করেন, “বীর জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য মানুষ রাজপথে জীবন দেয়নি।” একই সঙ্গে সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করছে বলে সমালোচনা করেন।
তারেক রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানান, “অন্তর্বর্তী সরকারকে হুমকি-ধামকি না দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জনগণের মুখোমুখি হওয়া উচিত। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—একটি দলের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করবে, না কি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে অগ্রাধিকার দেবে।”