
প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন হলো পবিত্র কাবা ঘর ধোয়ার বার্ষিক ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতা। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী সাধারণ কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন মিশাল। এছাড়া মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট অতিথিরাও এ আয়োজনে অংশ নেন। ধোয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রিন্স সাউদ কাবা ঘরের ভেতরে গিয়ে তাওয়াফের পর সুন্নত নামাজ আদায় করেন।
তিন ধাপে চলে এই পবিত্র স্থান পরিষ্কারের কার্যক্রম। প্রথমে ৪০ লিটার জমজম পানি দুটি রূপার গ্যালনে ভাগ করে রাখা হয়, যার সঙ্গে তায়েফের গোলাপ জল ও সুগন্ধি তেল মেশানো হয়। এরপর এসব তরল দিয়ে কাবা ঘরের দেয়াল ও ভেতরের অংশ ধোয়া হয়। শেষ ধাপে থাকে সুগন্ধি ও ধূপ দেওয়ার কাজ, যেখানে ব্যবহৃত হয় কস্তুরী, তায়েফ গোলাপ তেল ও আউদ ধূপ।
পরিষ্কারের সময় ব্যবহৃত বিশেষ সরঞ্জামের হাতল রৌপ্য দিয়ে তৈরি এবং তাতে জেনারেল প্রেসিডেন্সির লোগো খোদাই করা থাকে। পানি মোছার পর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ধীরে ও যত্নসহকারে।
প্রসঙ্গত, রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পর প্রথম কাবাঘর ধোয়ার ঐতিহ্য শুরু করেন। পরবর্তীতে খলিফাগণ এবং মুসলিম শাসকরা গুরুত্বসহকারে এই রীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।