
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-কে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ালে ইসরায়েলকে একা লড়াই চালাতে হতে পারে। চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যেই এই মন্তব্য আসে, যা কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। তিনি নেতানিয়াহুকে সরাসরি সতর্ক করে জানান, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইসরায়েলকে একাই লড়াই করতে হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে সংঘাত কমিয়ে আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানান।
এর আগে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা পাল্টাপাল্টি হামলার পর সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও তা স্থায়ী হয়নি। লেবানন ও ইয়েমেনকেন্দ্রিক হামলা এবং আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান উত্তর ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপর ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় হামলা চালায় এবং পাল্টা জবাবে ইরানও একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প একাধিকবার ফোনে নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বলে জানা যায়। তবে এরপরও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়।
নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি ইরানকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, নতুন হামলা হলে পূর্ণ শক্তিতে জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনকে ছোট করে দেখিয়ে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এটিকে পারিবারিক মতবিরোধের মতো বিষয় বলে মন্তব্য করেন।
ইরান অভিযোগ করেছে, এই উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। পাশাপাশি তেহরান দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে তারা নতুন সক্ষমতা দেখিয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনায় আগ্রহী এবং সমাধানের পথ খোলা আছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌচলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত আকার নিয়েছে। একই সময়ে লেবাননেও একাধিক বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।