
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর কোনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পা পড়ল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। চার দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে ভারতের তিলোত্তমা নগরীতে এসে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দায়িত্বভার গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম ভারত সফর। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সফরের প্রথম দিনেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্গিও গোর।
শনিবার সকালে কলকাতায় অবতরণের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং তার সহধর্মিণী জিনেট ডি রুবিও সরাসরি চলে যান মাদার তেরেসার স্মৃতিবিজড়িত মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দপ্তরে। সেখানে তারা চ্যারিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিশ্ববরেণ্য মানবতাবাদী মাদার তেরেসা কর্তৃক কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে আর্তপীড়িত, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
মার্কো রুবিওর এই আগমনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলকাতা সফর করলেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ আগামীকাল রোববার (২৪ মে) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হবেন রুবিও। এরপর আগামী মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে নির্ধারিত কোয়াড (QUAD) জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও যোগ দেবেন তিনি। কূটনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগ্রা ও জয়পুর ভ্রমণেরও কথা রয়েছে।
ভারত সফরের প্রাক্কালে গত শুক্রবার নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে রুবিও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। তারা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদার। আমরা একসঙ্গে অনেক ভালো কাজ করছি, তাই এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, এই শীর্ষ সফরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এবং ভারতের পণ্যসামগ্রীর ওপর আমেরিকার নতুন শুল্ক আরোপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনসহ বহুমাত্রিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই সফরের আয়োজন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি—উভয় নেতাই ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বিদ্যমান গতিশীলতা বজায় রাখতে সমানভাবে আগ্রহী।