
ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত এক দিনে গাজায় নিহত হয়েছেন ১১১ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ৯১ জন ত্রাণ সংগ্রহের সময় প্রাণ হারান বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায় হামাস-শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৮২০ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েল-হামাস সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ২৪৯ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে, এবং আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯ জন।
গত ২৭ মে থেকে গাজায় নতুন একটি ত্রাণ বিতরণ পদ্ধতি চালু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে মোট ১ হাজার ৩৩০ জন নিহত এবং ৮ হাজার ৮১৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।
এদিকে, গাজায় কাজ করা জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ–এর একজন কর্মী দালিয়া তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি বার্তায়।
তিনি লেখেন, গাজায় ক্ষুধা এখন আর ছায়া নয়; এটি আমাদের স্থায়ী সঙ্গী। প্রত্যেক দিন সকালেই আমি একই প্রশ্ন নিয়ে জেগে উঠি : আজ আমার সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য রুটি খুঁজে পাবো কি?
দালিয়া আরও বলেন, এক টুকরো রুটি এখন একখণ্ড ধনভাণ্ডার। এক চামচ ভাতই হয়ে ওঠে হাসির কারণ। আমার সন্তানেরা খাবার চায়, কিন্তু তার পরের নীরবতাই যেন কোনও বোমার চেয়েও বেশি গর্জে ওঠে।
ইসরায়েল, যেটি গাজায় সব ধরনের প্রবেশ ও সরবরাহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রেখে ত্রাণ পাঠাতে অনুমতি দিচ্ছে। এই কার্যক্রমের সমন্বয় করছে ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাত (COGAT)।
কোগাত জানায়, বুধবার গাজায় ২৭০টি ত্রাণবাহী ট্রাক এবং দুটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার প্রবেশ করেছে। সেই সঙ্গে আকাশপথে মিসর, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় ৩২টি প্যালেট ত্রাণ সরবরাহ করা হয়।
তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, গাজার জনগণের চাহিদা পূরণে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক প্রয়োজন।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, বর্তমানে গাজায় যে পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশ করছে তা প্রয়োজনের তুলনায় 'সমুদ্রে এক ফোঁটা' পানি ফেলার মতো।
তিনি জানান, রোববার গাজায় প্রবেশ করা জাতিসংঘের বেশিরভাগ খাদ্যবাহী ট্রাক লুটের শিকার হয়। তার ভাষায়, এসব ট্রাকের বেশিরভাগই ক্ষুধার্ত সাধারণ মানুষের ক্রোধের শিকার হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, রয়টার্স