
নগদ অর্থ বা তারল্যের তীব্র সংকটে পড়েছে দেশের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ সংরক্ষণ অনুপাত (সিআরআর) বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জরুরি ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতায় গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত তুলে নেওয়ার কারণেই এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গ্রাহকদের আমানত প্রত্যাহারের চাপের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত নগদ অর্থের নির্ধারিত সীমা (সিআরআর) রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে আগে যেখানে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা জমা ছিল, তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে বর্তমানে মাত্র ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই ঘাটতি পূরণ ও ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
শীর্ষ পদের এই আকস্মিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আস্থার সংকট তৈরি হয়। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নেন গ্রাহকরা, যা ব্যাংকটিকে সরাসরি তারল্য সংকটে ফেলে দেয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ বিতরণের কারণে ইসলামী ব্যাংক প্রথম চরম তারল্য সংকটে পড়েছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে সিআরআর ঘাটতি থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় ব্যাংকটিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগের বিরোধিতা করে একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার বিভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেছেন। আজ মঙ্গলবার টানা নবম দিনের মতো রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের মতো দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকে চলমান এই প্রশাসনিক ও মাঠপর্যায়ের অস্থিরতা দ্রুত নিরসন করা জরুরি। এটি করা না গেলে সাধারণ আমানতকারীদের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে, যা পুরো ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতির ওপর নতুন করে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।