
দেশের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে আবারও বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নাটকীয় ঘটনাবহুল এক দিনে শীর্ষ পর্যায়ে নজিরবিহীন রদবদল ঘটেছে। আজ রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত পণ্ড হয়ে যায়। এর পরপরই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান—উভয়েই নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন চেয়ারম্যানের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে ব্যাংক ছাড়েন। এর কয়েক ঘণ্টা পর, বিকালের দিকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমানও নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান বলে বাংলাদেশ ব্যাংক (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হঠাৎ এই নাটকীয় বিদায়ের বিষয়ে মো. ওমর ফারুক খাঁন বণিক বার্তাকে জানান, চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। এটি ব্যাংকের পর্ষদে ওঠার কথা। কিন্তু পর্ষদের সভা না হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় আবেদনের বিষয়টি অনুমোদন হয়নি।
এদিকে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ ও অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদে আজ সকালেই ঢাকার মতিঝিলে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে 'ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম'। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে তারা এই মানববন্ধন সম্পন্ন করেন।
উক্ত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ গ্রাহক ও প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বন্ধ এবং সব ধরনের বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানান।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ৪টি দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ব্যাংকের এমডি অপসারণ করা হলে চেয়ারম্যানকেও অপসারণ করতে হবে।
২. দলীয় ও বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
৩. এস আলমকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং গ্রাহকদের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
৪. গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে।
শীর্ষ দুই কর্মকর্তার এমন আকস্মিক পদত্যাগের ফলে ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কার্যপ্রণালী ও সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।