
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আগামী রোববার (২৫ মে) অনুষ্ঠেয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বর্তমানে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন ওমর ফারুক খান। তার এ ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ৩১ মে। তবে ঈদুল আজহার ছুটির আগে রোববারই ব্যাংকটির শেষ কার্যদিবস হওয়ায় সেদিনের বোর্ড সভাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে স্বল্প মেয়াদের শ্রান্তি-বিনোদন ছুটির আবেদন করলেও পর্ষদ তাকে দীর্ঘ ছুটিতে পাঠায়। গত ১২ এপ্রিল থেকে তিনি কর্মস্থলের বাইরে রয়েছেন।
ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র বলছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে এমডি পদে রাখতে আগ্রহী নয় ‘ঊর্ধ্বতন মহল’। যদিও কারা এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে দলটির পক্ষে ব্যাংকের বিভিন্ন কাঠামো ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে আরও কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন সময়ে তিনি ডিএমডি হিসেবে পদোন্নতি পান এবং সে সময় বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দায়িত্বেও ছিলেন। সেই অতীত সংশ্লিষ্টতাও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
এ ছাড়া নাসা গ্রুপের একটি ঋণ অনিয়ম সংক্রান্ত প্রতিবেদনে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছিল বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এমডি হিসেবে ওমর ফারুকের নিয়োগ অনুমোদনের নথি দুই দফা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। পরে তৃতীয় দফায় তার নিয়োগ অনুমোদন পায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওমর ফারুকের অনুমোদনসংক্রান্ত নথিতে কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। সেগুলো এখন সামনে এনে তাকে সরানোর প্রক্রিয়া চলতে পারে। তবে বিষয়টি সম্মানজনকভাবে শেষ করতেই হয়তো পদত্যাগের পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’
তবে পদত্যাগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এম ওমর ফারুক খান। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জুবায়দুর রহমানও এ বিষয়ে কথা বলেননি।
২০২৫ সালের ৩ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ পান ওমর ফারুক খান। এর আগে একই বছরের মে মাসে তৎকালীন এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা চাকরি হারানোর পর প্রথমে চলতি দায়িত্ব পান তিনি।
১৯৮৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে যোগ দিয়ে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ওমর ফারুক। পরে এনআরবি ব্যাংকে অতিরিক্ত এমডি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন জুবায়দুর রহমান।
একসময় জামায়াতপন্থী উদ্যোক্তা ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পরিচালিত ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের হাতে যায়। সে সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।